সুদানে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ: দেড় লাখ মানুষের মৃত্যু, বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৫২ এএম

সংগৃহীত

 

দেশের ক্ষমতা দখলকে কেন্দ্র করে ২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদানে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। সেনাবাহিনী ও আধা-সামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে শুরু হয় তীব্র সশস্ত্র সংঘাত, যা আজও চলছে।

দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান এই সংঘাতে প্রায় দেড় লাখ মানুষ নিহত হয়েছে। দুর্ভিক্ষে বিপর্যস্ত পুরো দেশ। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এক কোটি ২০ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।

সম্প্রতি পশ্চিম দারফুর অঞ্চলের এল-ফাশের শহর দখল করে নেয়ার পর সেখানে আরএসএফ বাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ উঠেছে। জাতিসংঘ বলছে, বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটটি ঘটছে সুদানে।

 

সংঘাতের সূত্রপাত কোথায়


সুদানে বর্তমান সংঘাতের সূত্রপাত ২০১৯ সালে, যখন গণবিক্ষোভের মুখে দেশটির দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এরপর সেনাবাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।

কিন্তু ২০২১ সালের অক্টোবরে আরেকটি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই সরকারকেও ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। ঐ অভ্যুত্থানের নেপথ্যে ছিলেন দুই সামরিক নেতা—
জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং জেনারেল মোহামেদ হামদান দাগালো।

বর্তমানে এই দু’জনই সুদানের ক্ষমতার লড়াইয়ের কেন্দ্রে রয়েছেন। জেনারেল আল-বুরহান সুদানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান এবং সেই কারণে তিনিই দেশটির প্রেসিডেন্ট। অন্যদিকে জেনারেল মোহামেদ হামদান দাগালো, যিনি “হেমেডটি” নামে পরিচিত, হলেন আধা-সামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর কমান্ডার।

 

বন্ধুত্ব থেকে রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্ব


অল্প কিছু বছর আগেও দু’জনের মধ্যে সম্পর্ক ছিল ঘনিষ্ঠ। ২০১৯ সালে তারা একসাথে ওমর আল-বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। এমনকি ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

কিন্তু পরবর্তীতে দেশের ভবিষ্যৎ প্রশাসন এবং বেসামরিক শাসনে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে তাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতা, সম্পদ ও প্রভাব ধরে রাখার প্রতিযোগিতাই তাদের সম্পর্কের অবনতির মূল কারণ।

মূল দ্বন্দ্বের অন্যতম ইস্যু ছিল— আরএসএফের এক লাখের বেশি সদস্যকে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, আর যদি হয়, তাহলে নতুন ঐক্যবদ্ধ বাহিনীর নেতৃত্ব দেবেন কে। এই প্রশ্নেই উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।

 

যুদ্ধের সূচনা ও বর্তমান অবস্থা


২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে আরএসএফ বাহিনীকে সুদানের বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেনাবাহিনী এটি সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখে। এর পরপরই, ১৫ এপ্রিল ২০২৩, দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়।

কিছুদিনের মধ্যেই আরএসএফ বাহিনী রাজধানী খার্তুমের বড় একটি অংশ দখল করে নেয়। দীর্ঘ দুই বছরের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর, ২০২৫ সালের মে মাসে, সেনাবাহিনী অবশেষে রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে।

তবে যুদ্ধ এখনো থামেনি। দেশজুড়ে মানবিক বিপর্যয় গভীর হচ্ছে, আর সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ পৌঁছেছে চরমে।

 

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com