শিলিগুড়ি করিডোরে ভারতের সামরিক তৎপরতা: লালমনিরহাট সীমান্তে গুজব, বাস্তবে কী হচ্ছে?

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ নভেম্বর ২০২৫, ০২:১৯ পিএম

ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে ভারত কেন সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে?

বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে ভারতের ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডোর এলাকায় সামরিক তৎপরতা বাড়ানোকে ঘিরে দুই দেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে চলছে আলোচনা। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত আসামের ধুবরি এবং পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরে দুটি নতুন সেনা স্টেশন নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। বিষয়টি ভূরাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা জোরদার করতেই করা হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

লালমনিরহাট সীমান্ত ‘ভারতের দখলে’—গুজব বলছে বিজিবি

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, লালমনিরহাট সীমান্তের ৬২ কিলোমিটার ভারত দখলে নিয়েছে—এমন একটি খবর।
এ বিষয়ে তদন্ত করে বিজিবি জানায়, খবরটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও বানোয়াট

বিজিবি ব্যাটালিয়ন-১৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন—

“এটি একটি ফেব্রিকেটেড নিউজ। সীমান্তের কোথাও ভারতীয় সেনাবাহিনীর দখল বা অনুপ্রবেশ হয়নি। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।”

তিনি জানান, বিএসএফের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় ও যৌথ টহল চলছে এবং সীমান্তে কোথাও উত্তেজনা নেই।

স্থানীয়দের বক্তব্য: কড়া নজরদারি আছে, কিন্তু জমি দখল নয়

লালমনিরহাটের মোগলহাট ও ধরলা নদীসংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়—
বাংলাদেশি কৃষক ও স্থানীয়রা স্বাভাবিকভাবে মাঠে কাজ করছেন। কোনো অতিরিক্ত সেনা উপস্থিতি বা অনুপ্রবেশের প্রমাণ নেই।

তবে স্থানীয়রা জানান, বিএসএফ গত ৫ আগস্টের পর থেকে টহল বাড়িয়েছে। আগে যেখানে ৫–৬ জন থাকত, এখন ১৫–১৬ জন সদস্য নিয়মিত ঘোরাফেরা করছেন এবং অস্থায়ী চৌকি (ঝুপড়ি) বাড়ানো হয়েছে।

শিলিগুড়ি করিডোরকে কেন্দ্র করে ভারতের সামরিক প্রস্তুতি

ভারতের অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল দীপঙ্কর ব্যানার্জী বলেন, শিলিগুড়ি করিডোর ভারতের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকা। চীনের আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবিলা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত এ এলাকায় সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।

তার মতে—

“এটি ভারতীয় সামরিক অবকাঠামোর স্বাভাবিক শক্তিবৃদ্ধি; বাংলাদেশের সঙ্গে এর সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।”

বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের ভিন্ন মূল্যায়ন

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর জেনারেল মো. নাঈম আশফাক চৌধুরী মনে করেন—
ভারতের এ পদক্ষেপের নেপথ্যে তিনটি কারণ গুরুত্বপূর্ণ—

  1. শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা

  2. চীনের সম্প্রসারণবাদ

  3. বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন

তিনি বলেন—

“এটি সরাসরি হামলার প্রস্তুতি নয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি ‘গ্রে জোন ব্যাটল’—বাংলাদেশের সিদ্ধান্তগ্রহণে চাপ প্রয়োগের কৌশল।”

তার মতে তিস্তা প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা এবং লালমনিরহাট বিমানবন্দরের অবস্থানও ভারতের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

বিজিবির অবস্থান

বিজিবি স্পষ্ট জানায়—

  • সীমান্তে অস্বাভাবিক কোনো সামরিক জমায়েত নেই

  • ভারত নির্দিষ্ট দূরত্বে তাদের ঘাঁটি নির্মাণ করতে পারে

  • সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ না হলে এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়

ভারত বাংলাদেশের সামরিক হুমকি নয়—ভারতীয় বিশ্লেষক

ভারতের মেজর জেনারেল দীপঙ্কর ব্যানার্জী বলেন—

“বাংলাদেশকে ভারত কখনো সামরিক হুমকি মনে করে না। তবে দীর্ঘ সীমান্তে অন্য কোনো শক্তির প্রভাবকে ভারত উদ্বেগের চোখে দেখে।”

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com