বহিঃশক্তি ও তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ: কমিশন

বিডিআর হত্যাকাণ্ডে দলগতভাবে জড়িত আওয়ামী লীগ, মূল সমন্বয়কারী তাপস: কমিশন

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:২২ এএম

সংগৃহীত

ঢাকা, ৩০ নভেম্বর ২০২৫: বিডিআর বিদ্রোহের নামে সংঘটিত নৃশংস হত্যাযজ্ঞের তদন্তে গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন আজ রবিবার প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কমিশন প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন। এসময় কমিশনের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

কমিশনের সদস্যরা হলেন—মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার (অব.), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমান বীর প্রতীক (অব.), সচিব (অব.) মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, অতিরিক্ত আইজিপি (অব.) ড. এম. আকবর আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন।

“সত্য উদ্ঘাটনের এই কাজ জাতি স্মরণে রাখবে”—প্রধান উপদেষ্টা

প্রতিবেদন গ্রহণ করে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন,
“বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জাতি দীর্ঘদিন ধরে অন্ধকারে ছিল। আপনারা সত্য উদ্ঘাটনে যে ভূমিকা রেখেছেন, জাতি তা স্মরণে রাখবে।”

তিনি আরও বলেন, ইতিহাসের এই ভয়াবহতম ঘটনাকে ঘিরে বহু প্রশ্নের অবসান ঘটবে এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে। এতে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় বিষয় উঠে এসেছে যা ভবিষ্যতের জন্য মূল্যবান সম্পদ হয়ে থাকবে।

কমিশন প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) ফজলুর রহমান বলেন, ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় অনেক আলামত নষ্ট হয়ে গেছে এবং সংশ্লিষ্ট অনেকেই বিদেশে চলে গেছেন। তবুও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করা হয়েছে।

তিনি জানান, সাক্ষীদের দীর্ঘসময় বক্তব্য শোনা হয়েছে—কেউ কেউ ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত তথ্য দিয়েছেন। আগের তদন্তের নথি, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও অন্যান্য উপাদান সংগ্রহ করে সব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে।

বহিঃশক্তি ও তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ: কমিশন

কমিশনের সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার জানিয়েছেন, তদন্তে বিডিআর হত্যাকাণ্ডে বহিঃশক্তির সরাসরি সম্পৃক্ততা এবং তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সরাসরি জড়িত থাকার শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন—

  • ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে।

  • এর প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকায় ছিলেন তৎকালীন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস।

  • স্থানীয় আওয়ামী লীগ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের রক্ষায় সরাসরি ভূমিকা রেখেছে।

  • পিলখানায় তারা প্রথমে ২০–২৫ জনের মিছিল নিয়ে ঢুকে পরে সে মিছিল বেড়ে দুই শতাধিক হয়ে যায়।

  • পুরো ঘটনার পেছনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছিল বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

তদন্তে উঠে এসেছে—
সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে সেনাপ্রধান, পুলিশ-র‍্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার স্পষ্ট ব্যর্থতা ছিল। কিছু গণমাধ্যম ও সাংবাদিকের আচরণ ছিল অপেশাদার।

তিনি আরও জানান, ঘটনাকালে যমুনা ভবনে যেসব বিডিআর সদস্যদের সঙ্গে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করেন, তাদের পরিচয় সংরক্ষণ করা হয়নি।

সুপারিশ

তদন্ত প্রতিবেদনে ভবিষ্যতে বাহিনীগুলোর মধ্যে বিদ্রোহ বা অনুরূপ ঘটনা রোধে বিভিন্ন কাঠামোগত ও নীতিগত সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি নিহতদের পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়—সে বিষয়েও সুপারিশ প্রদান করা হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারী (অব.) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আব্দুল হাফিজ এবং স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি।

সুত্র: চীফ এডভাইজার গভ ফেসবুক পেজ।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com