পিলখানা হত্যাযজ্ঞ: তাপস, সেলিম সমন্বয় ভারতীয় গোয়েন্দার অংশ নেন কমান্ডো এনএসজিসহ ২৪ ভারতীয়
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৯ এএম
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানায় সংঘটিত নৃশংস হত্যাযজ্ঞের ১১ মাসব্যাপী তদন্ত শেষে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে। ৩৬০ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে পুরো ঘটনার পরিকল্পনা, সমন্বয় এবং বাস্তবায়ন পর্যায়ে জড়িত ব্যক্তি ও পক্ষগুলোর বিস্তারিত বিবরণ উঠে এসেছে।
তাপসের নাম সর্বাধিক আলোচিত: ভারতীয় গোয়েন্দা সংশ্লিষ্টতার দাবি
কমিশনের প্রতিবেদনে সবচেয়ে বেশি উচ্চারণ এসেছে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাতিজা ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের নাম। তদন্তে তার অফিস ও বাসাকে পরিকল্পনা সমন্বয়ের কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে—
-
পিলখানা হত্যাযজ্ঞের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয় ভারতীয় পক্ষের সঙ্গে এক বৈঠকের পর।
-
তাপসের অফিস ও বাসায় একাধিক বৈঠকে সেই পরিকল্পনা সমন্বয় করা হয়।
-
তাপসের অফিসকক্ষেই ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও পরিকল্পনাকারীদের উপস্থিতিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
-
ভারতীয় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও কমান্ডোর ২৪ জন সদস্য সরাসরি এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে সাক্ষ্যপ্রমাণ পেশ করেছে কমিশন।
ভারতীয় সহযোগিতা, নির্বাচন ও ক্ষমতায়ন—কমিশনের পর্যবেক্ষণ
কমিশন জানায়, ২০০৮ সালের নির্বাচনে ভারতীয় সহায়তায় শেখ হাসিনা ক্ষমতায় বসেন। ক্ষমতায় এসেই মাত্র দু’মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সেনাবাহিনীর দেশপ্রেমিক কর্মকর্তাদের বিডিআরে পদায়ন করা হয়। কমিশনের বিশ্লেষণ—
-
রৌমারী, বড়াইবাড়ী ও পদুয়া সীমান্তে বিএসএফের লজ্জাজনক পরাজয়ের প্রতিশোধ,
-
সেনাবাহিনীর মনোবল ভেঙে দেওয়া,
-
এবং বাংলাদেশের ওপর আধিপত্যবিস্তারের কৌশলগত উদ্দেশ্য—
এসবই পিলখানা হত্যাযজ্ঞের মূল প্রণোদক।
শেখ পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত
কমিশন জানায়—
-
বিদেশে পলাতক অবস্থায় থাকা শেখ হাসিনা ব্যারিস্টার তাপসের ফুপু,
-
একইভাবে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিম
পরিকল্পনার কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী হিসেবে বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নেন।
এক বৈঠকে সেলিমের উপস্থিতিতে বিডিআর সদস্যদের কাছে প্রথমে অফিসারদের জিম্মি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়, পরে তা পরিবর্তন করে হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সোহেল তাজের ভূমিকা
কমিশন বলেছে—
-
তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ পরিকল্পনার বিষয়ে অবগত ছিলেন।
-
কেন তিনি বিডিআর ইউনিফর্ম তৈরি করিয়েছিলেন সে বিষয়ে জবানবন্দিতে নানা তথ্য উঠে এসেছে, যা কমিশন উল্লেখ করেছে।
-
হত্যাকাণ্ডের দুই দিন আগে হাসিনাকে পিলখানায় যেতে নিষেধ করেছিলেন কে—তার নামও তদন্তে উঠে এসেছে।
বিডিআরের বীরত্ব ও বিএসএফের প্রতিহিংসা
প্রতিবেদনে পিলখানা হত্যার পেছনে বিএসএফের প্রতিশোধপরায়ণতা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পদুয়া ও রৌমারীর খণ্ডযুদ্ধে বিডিআর সদস্যদের বীরত্বে ভারতের শোচনীয় পরাজয় হয়। কমিশনের মতে—
“ভারত সেই পরাজয় কোনোদিন মেনে নেয়নি।”
কমিশনের নেতৃত্ব ও তদন্তকাল
-
কমিশনের প্রধান: মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান
-
তদন্তকাল: প্রায় ১১ মাস
-
নিহত: ৫৭ সেনা কর্মকর্তা সহ মোট ৭৪ জন
-
জমাদান: গত রোববার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে
আরও পড়ুন
স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ পেলেন যারা
উৎপাদন কমানোর আগে ইরান দুই মাস পর্যন্ত তেল রপ্তানি বন্ধ রাখতে পারে, বলছেন বিশ্লেষকরা
গুলিবিদ্ধ সেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক জয়নাল আবেদিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ